কুহেলিকা

 আমি তো ভাবতেই পারছি না আমার গোপন প্রেমিকটি তুমি বেরবে । চরম উত্তেজনার সাথে বলে উঠল রাফায়েল । 

তার কথা শুনে  অপর পাশের নারীমূর্তিটি উত্তরে  শুধুমাত্র  একটা মৃদু  হাসি দিল। তারপর  টি টেবিলের ওপর রাখা  ওয়াইনের বোতল থেকে  খানিকটা  ওয়াইন  গ্লাসে ঢেলে নিয়ে  চুমুক  দিতে দিতে বলল, 


“তো কাকে আশা করছিলে? ” 


 “উমমম সেরকম তো ভেবে দেখিনি কিন্তু তোমার মতই একজন সুদর্শণা, চিত্তাকর্ষক  সেক্সি রমণীকেই আশা করছিলাম। আর আমার আশা তোমাকে দেখে পূরণ  হয়ে গেল। কিন্তু তুমি আমাকে এই রিসোর্টে নিতে বললে কেন?   ”


“ কেন সুইটহার্ট  তোমার বুঝি জায়গাটা পছন্দ  হয়নি?  তুমিই তো বলেছিলে আমার সাথে একান্তে সময় কাটাতে চাও ।  তাইতো আমি শহর থেকে  দূরে  এই রিসোর্টটা নিতে বললাম। ”


“হ্যাঁ, রিসোর্টটা বেশ সুন্দর । আমারো বেশ পছন্দ  হয়েছে।  কিন্তু  কেমন যেন শুকা শুকা  । বলেই সামনের নারীমূর্তিটির কানের মাঝে হালকা কামড় বসিয়ে  দিল। ” 


“উফ আর তর সইছে না বুঝি? বলে ওয়াইনের  বোতল থেকে খানিকটা  ওয়াইন ঢেলে রাফায়েল  এর দিকে বাড়িয়ে দিল সে। ”

রাফায়েল  ও পরম তৃপ্তিতে  এক চুমুকেই সবটা শেষ করে ফেলল। তারপর আর সময়জ্ঞাপন না করে নারীমূর্তিটিকে বিছানার মাঝে এনে আদিম খেলায় মত্ত হয়ে উঠল। 


হঠাৎ ই  রাফায়েল  আর্তচিৎকারে বলে উঠল, 


এটা কি করছো তুমি? কেন এমন করছো? ছেড়ে দাও  আমায় ছাড়ো বলছি?  ত...তুমি কি পাগল হয়ে গেলে ৷ এমন করো 

আর কিছু  বলতে পারলো না রাফায়েল । 

তার তীব্র আর্তচিৎকার  বন্ধ  ঘরের দরজার এ পাশেই আটকা  পড়ে গেল। 


★★★

সকাল  নয়টা । চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে নিউজপেপারটা হাতে নিল আফিফ। সাধারণত ছুটির দিনগুলো  ব্যতিত  এ সময়টা আফিফের অফিসেই কেটে যায় । আর ছুটির  দিনগুলোতে  দীর্ঘ সময়ের ঘুমের পর নিউজপেপার  আর চায়ের কাপের সাথেই কাটে। নিউজপেপার  দেখতে দেখতে হঠাৎ  একটা পেজে এসে তার চোখ আটকে গেল সাথে মৃদু  চিৎকার। আফিফের চিৎকার শুনে  রান্নাঘর  থেকে তড়িঘড়ি  করে ছুটে এলো ফাইজা।

তারপর শান্ত কন্ঠে বলল, 


“কি হয়েছে  এভাবে চিৎকার করে উঠলে কেন? ”


“আফিফ  মুখে কিছু বলল না, হাতে থাকা নিউজপেপারটি তার দিকে এগিয়ে দিল।  ” 


ফাইজা নিউজপেপারটি দেখে অবিকল  সেই আগের মতোই  শান্ত ভাবে জবাব দিল, 


“এতে চিৎকার করার কি আছে? এসব তো নিত্য দিনের ঘটনা। সামান্য  একটা নিউজ দেখে এমন করে চিৎকার করে কেউ।  বলে  আবার রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল সে। 


আফিফ এবার অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ফাইজার চলে যাওয়ার দিকে। তারপর বিরবির  করে বলল, 

এই মেয়েটাকে যত দেখছি তত অবাক হচ্ছি।  এতো বড় একটা খুনের কান্ড  হয়েছে আর কেমন শান্তভাবে বলছে এসব যেন কিছুই না।  অথচ কি নৃশংস  ভাবেই না হত্যা করেছে ছেলেটাকে। চোখগুলো তার জায়গায় অনুপস্থিত।  চোখের স্থলে তৈরি  হয়েছে প্রায় দু ইঞ্চির মত গর্ত । আর গোপনাঙ্গটা যেন কোনো ধারালো অস্ত্রের দ্বারা  কেটে ফেলেছে।  বুকের মাঝে ক্ষত দেখে বোঝায় যাচ্ছে  কেউ একজন  লোকটি মৃত্যুর পরও  তার শরীরের  উপর ক্ষোভ মিটিয়েছে।  এমন ভয়ানক লাশ দেখলে যে কারোরই পিলে চমকে যাবে।  আর সেখানে এই মেয়েটির কোনো অনুভুতিই নেই।


“অতকিছু চিন্তা না করে টেবিলের উপর খাবার ঢাকা আছে খেয়ে নাও। ” 

ফাইজার কন্ঠ আফিফের ভাবনার  মাঝে ছেদ ঘটালো। 


কিন্তু আফিফের এখন খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই।  পকেট থেকে  মোবাইলটা বের করে  কারো নাম্বার ডায়াল করল। কল রিসিভ হলে নিম্নস্বরে কিছু একটা বলে  ফোনটা রেখে দিল সে।  তারপর   ফাইজাকে উদ্দেশ্য  করে বলল, 

“আমি বেরুচ্ছি  একটু।  দুপুরে বাহিরে খেয়ে নিবো। ” বলে ফাইজার উত্তরের অপেক্ষা করে না আফিফ  দরজা খুলে বাহিরের দিকে হাঁটা  শুরু করে সে।  


★★★ 


রাত নয়টা। বিছানার  কার্ণিশে বিধস্ত অবস্থায় বসে আছে একজন নারীমূর্তি। হাতের মুষ্টিতে বন্দি একগুচ্ছ ছবির  দিকে একমনে তাকিয়ে রয়েছে সে। সে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস  করতে পারছে না। চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝড়ছে তার।  ছবিগুলো  বিকেলের দিকে কেউ একজন তার কাছে পাঠিয়েছে তখন থেকেই যেন একদম নিষ্প্রাণ  হয়ে গিয়েছে । হঠাৎই নারীমূর্তিটি চোখের জল মুছে ফেলল। চোখজোড়া দিয়ে জলের পরিবর্তে এখন অঙ্গিস্ফুলিঙ্গ ঝড়ছে। সে তার স্বীদ্ধান্ত  নিয়ে ফেলেছে। এখন দূর্বল  হলে কিছুতেই  হবে না। বিছানা থেকে দাঁড়িয়ে ধীর পায়ে  সে ডেসি টেবিল  এর সামনে এসে দাঁড়ালো । এই টেবিলটার পিছনেই রয়েছে তার গুপ্ত কুঠরী । ডেসি টেবিল টাকে  হালকা ধাক্কা  দিতেই  সরে গেল  সাইডে। ডেসি টেবিল  সরে যেতেই ভেতর থেকে  একজোড়া  আর্তচিৎকার ভেসে এলো।  নারীমূর্তিটি একটি ধারালো অস্ত্র  নিয়ে এগিয়ে গেল কুঠুরির ভেতর। সম্পূর্ণ ফাঁকা  একটি রুমের মাঝে  দুজন নগ্ন নারী- পুরুষ  দুটি চেয়ারের  সাথে শক্ত করে বাঁধা  অবস্থায় পড়ে রয়েছে।  নারীমূর্তিটি  ধীর পায়ে তাদের  দিকেই এগিয়ে গেল।  তারপর পুরুষটির দিকে তাকিয়ে বলল , 


“কেন !  কেন এমন করলে আফিফ? আমি তো তোমায় ভালোবেসেছিলাম।  তাহলে কেন আমার সাথে এমন প্রতারণা  করলে?” 


 “ আমাদের ক্ষমা করে দাও ফাইজা । আমার.. ” 


“ক্ষমা! ক্ষমা কাকে করা যায় জানো ? ক্ষমা তাকে করা যায় যে বা যারা ভুল করে । প্রতারকদের কোনো ক্ষমা নেই আফিফ ।  বলেই একটা ক্রুর  হাসি দিল সে।” 

 

তারপর  সামনের নারীর  নগ্ন দেহটার দিকে তাকিয়ে  বলল, 


“এই দেহ দেখিয়ে তুই ওকে কাছে টেনেছিলি তাই না এখন কিভাবে কাছে টানবি কাউকে? তোর এই সুন্দর  দেহটা যে এখন বিশ্রী  হয়ে যাবে। উহু একটু ভুল হলো তুই তো বেঁচেই  থাকবি না তাহলে কাছে টানবি কি করে বলেই৷ তার স্তনযুগলের মধ্য ধারালো অস্ত্রটা দিয়ে একটা পোঁচ  দিল।  ” 


সাথে সাথেই চিৎকার করে উঠলো সামনে থাকা নারীটি। গগন বিদারক সেই চিৎকারে কানের পর্দা ছিঁড়ে  যাবার দশা।  কিন্তু সেই আওয়াজ রুমের মধ্যেই  বন্দি হয়ে গেল।  তারপর ফাইজার চোখ গেল  নারীমূর্তির গোপনাঙ্গের দিকে। সেদিকে চোখ যেতেই ধারালো  ছুরি দিয়ে একটা পোঁচ  দিল  সে। মেয়েটি যেন প্রাণ বায়ু বের হওয়ার দশা।  এসব দেখে আফিফের শরীর বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝড়ছে।  হঠাৎ  যেন মৃত্যু  ভয় তাকে আঁকড়ে  ধরেছে তীব্র ভাবে।  

কিন্তু তাতে ফাইজার মনে কোনো দয়ার উদ্ভব  হচ্ছে  না।  তার আর্তচিৎকার  যেন ফাইজাকে  আরও আনন্দ  দিচ্ছে । হঠাৎ  কি একটা ভাবতেই  ফাইজা উঠে দাঁড়ালো  তারপর  কিছু সময় এর মাঝে হাতের মধ্য কিছু একটা নিয়ে এসে আবার দাঁড়ালো  নারীটির সামনে।  ফাইজার  হাতের জিনিসগুলো দেখে মেয়েটি গোলাপ বলে উঠল, 


“প্লিজ ফাইজা আমাকে ছেড়ে দাও, প্লিজ। 


কিন্তু সেসব যেন ফাইজার কান অব্দি  পৌঁছালো না। 

সে হাতের মধ্যে থাকা  লবন আর লঙ্কাগুড়ো খুব যত্নসহকারে সামনে থাকা নারীর গোপনাঙ্গ আর স্তনে মেখে দিল।  এ যে  মরার উপর খাড়াড় ঘা।  মেয়েটি সাথেসাথেই তীব্র  আর্তনাদের সাথে ছটপটাতে লাগল । তা যেন ফাইজার মনে এক ভয়ানক নেশা জাগিয়ে  দিল। 


এবার নারীটিকে ছেড়ে আফিফের দিকে এগিয়ে গেল সে। তারপর বলল, 


“জানো আফিফ একজন নারীর কাছে তার সবথেকে আপনজনকে?  তারপর নিজেই উত্তর দিল তার স্বামী কিন্তু তুমি সেই বিশ্বাসটা ভেঙ্গে দিলে?  ” 

বলেই  গোপনাঙ্গে ধারালো অস্ত্র  দিয়ে একটা কোপ দিল। সাথে সাথেই আফিফ তীব্র  চিৎকার করে উঠল কিন্ত তা কিয়ৎক্ষনের জন্য। আফিফের প্রাণ বায়ু ততক্ষণে  বেড়িয়ে গেছে।  কিন্তু তবুও যেন ফাইজার শান্তি  হলো না।   ধারালো অস্ত্রদিয়ে একের পর এক পোঁচ  দিতে লাগল তাদের শরীরের উপর।


দু সপ্তাহ  কেটে গিয়েছে। আফিফের বাসার চারদিকে তীব্র দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।  তীব্র গন্ধের কারণে অতিষ্ঠ  এলাকার দু একজন প্রবেশ করে  তাদের বাড়িতে কিন্তু ভেতরে ঢুকে অবস্থা  দেখে সাথে সাথেই তারা  পুলিশে ফোন করে। ধীরে ধীরে  আফিফের বাড়ির সামনে লোকসমাগমে ভরে উঠে। ইতিমধ্যেই পুলিশ  এসে পুরো বাড়িটিকে সিল করে দিয়েছে। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই  তাদের চোখের সামনে দেখতে পেল তিনটে পঁচা  গলা লাশ মেঝেতে পড়ে রয়েছে। 

Comments